নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাতাহাতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপিরই এক প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।
রুমিন ফারহানা বলেন,
“আমি ভেবেছিলাম কমিশনের ভেতরে কেউ গুন্ডাপান্ডা নিয়ে আসবে না। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব ২০–২৫ জন লোক নিয়ে এসে গুন্ডামি করেছেন। ১৫ বছরে যেটা হয়নি, আজ সেটাই হলো—আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিএনপির নেতা–কর্মীদের জন্য এত বছর লড়েছি, তাঁরাই আমাকে ধাক্কা দিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি ভদ্রলোক নিয়ে এসেছি, গুন্ডা নয়। তারা ক্রমাগত উসকানিমূলক কথা বলছিল। শেষ দিকে বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। আমার লোকজনকে মারধর করা হলে তারাও প্রতিউত্তর দিয়েছে।”
সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব
নির্বাচন কমিশনের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়ন—বুধন্তী, চান্দুরা ও হরষপুর—কেটে সরাইল-আশুগঞ্জের সঙ্গে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের পক্ষে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সীমানায় ভোটার সংখ্যায় ভারসাম্য নেই। তাঁর আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, বিজয়নগরে ৬ লাখ ১০ হাজার ও সদরে ৬ লাখ। তিনটি ইউনিয়ন সরাইলের সঙ্গে যুক্ত হলে ভোটার ভারসাম্য তৈরি হবে।
তিনি আরও যুক্তি দেন, ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে সরাইলের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। তাঁদের দাপ্তরিক কাজ ও জমি রেজিস্ট্রি সরাইল উপজেলাতেই করতে হয় এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সরাইল তাঁদের জন্য সহজ।
রুমিন ফারহানা দাবি করেন, বিএনপি সব সময় ২০০৮ সালের আগের সীমানায় নির্বাচন করতে চেয়েছে। বর্তমান সীমানা ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধামতো নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
