আজ, ১২ ভাদ্র, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের এই দিনে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অসাধারণ প্রতিভার জীবনাবসান ঘটেছিল। অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদের চেতনায় বিশ্বাসী এই কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতি তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই তিনি ‘দুখু মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় হয়েছেন।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে নজরুল আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর কবিতা, গান ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি একদিকে যেমন শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দ্রোহের কবি, অন্যদিকে তেমনি প্রেম ও মানবতারও কবি। তাঁর নিজের ভাষায়, “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪শে মে ভারতের তৎকালীন সরকারের অনুমতিক্রমে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এ সময় তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ধানমন্ডিতে তাঁকে একটি বাড়ি বরাদ্দ করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং একুশে পদক প্রদান করে। একই বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
