বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আশা করছেন, আগামী বছর রোজার এক সপ্তাহ আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই, তবে কিছু দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা তাদের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
আজ মঙ্গলবার গুলশানে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে চান। তিনি এবারের নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংসদ নির্বাচনে **পিআর পদ্ধতি** (proportional representation) এবং গণপরিষদের দাবির মতো বিষয়গুলো কয়েকটি দলের মাঠ গরম করার কৌশল মাত্র বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে এখন নির্বাচনের আমেজ চলছে এবং যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলবে, তারা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাবে। কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে সেটা তাদের নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু যারা নানা অজুহাতে নির্বাচন বর্জন করবে, ভবিষ্যতে তারাই রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়বে।
**জুলাই সনদ** নিয়ে তিনি বলেন, সনদে থাকা কিছু বিষয় বিএনপির কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময় বিএনপি তাদের নিজেদের বিকল্প প্রস্তাব দেবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধানের চেয়ে বড় কোনো বিষয় জুলাই সনদে থাকলে তা বিএনপি মেনে নেবে না। আলোচনার মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
**অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন** নিয়ে কোনো জটিলতা চায় না বিএনপি। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এই সরকার গঠিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরবর্তী নির্বাচনে পুনর্বহাল হতে পারে। তিনি বলেন, এই সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে বলে তারা আশা করছেন এবং এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোট করার সুযোগ নেই বলে জানান সালাহউদ্দিন। তবে যুগপৎ আন্দোলনে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল, তাদের সঙ্গে জোট হতে পারে এবং ভবিষ্যতে তারা সরকারেও থাকতে পারে। এছাড়া কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বিগত আন্দোলনে যারা ছিল, তাদের সঙ্গেও জোট হতে পারে, তবে তা আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
