জনপ্রিয় টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত তার অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বাবার অমত সত্ত্বেও মায়ের সহযোগিতা কীভাবে তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। সম্প্রতি তার অভিনীত সিনেমা ‘বেলা’ মুক্তি পাচ্ছে। এই সিনেমার গল্পে যেমন একজন নারীর সামাজিক বাধা পেরিয়ে সফল হওয়ার কাহিনি আছে, তেমনই ঋতুপর্ণার জীবনের সঙ্গেও এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
পরিচালক অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের এই সিনেমাকে কেন্দ্র করে এক সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণা জানান, তার পরিবারের প্রায় সবাই সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তাই তার বাবা কখনোই চাননি মেয়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিক।
ঋতুপর্ণা বলেন, “বাবা চাইতেন আমিও সরকারি কোনো অফিসার হই। যখন প্রযোজকেরা কাজের প্রস্তাব নিয়ে ফোন করতেন, বাবা সরাসরি বলে দিতেন— ‘আমার মেয়ের সিনেমায় আগ্রহ নেই, আবার ফোন করবেন না’।” এই পরিস্থিতিতে তাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাবার অনিচ্ছা থাকলেও মায়ের পূর্ণ সমর্থন ছিল তার পাশে। মায়ের সহযোগিতাই তাকে স্বপ্ন পূরণে সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২৯ আগস্ট মুক্তি পেতে যাওয়া ‘বেলা’ সিনেমাটি ঋতুপর্ণার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, এই সিনেমার শুটিং চলাকালীন তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালের দৌড়াদৌড়ির মধ্যেও তিনি শুটিং চালিয়ে গিয়েছেন।
ঋতুপর্ণা বলেন, “আমি সব সময় এমন ছবিতে কাজ করতে চাই, যেখানে ইতিহাসকে তুলে ধরা যায়।” তিনি আরও জানান, এই ছবির একটি দৃশ্য এশিয়ার প্রাচীনতম অডিও রেকর্ড স্টুডিও ‘হিন্দুস্তান রেকর্ডস’-এ ধারণ করা হয়েছিল, যা তার কাছে জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।
