বর্তমান যুগে আধুনিক যানবাহনের ছোঁয়া লাগলেও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর চরাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম এখনো ঘোড়ার গাড়ি। নদী তীরবর্তী এসব দুর্গম এলাকায় বালুময় পথে অন্য কোনো যান্ত্রিক যান চলাচল করতে পারে না বলে যুগের পর যুগ ধরে এই ঐতিহ্যবাহী বাহনটিই স্থানীয়দের ভরসা হয়ে আছে।
সরেজমিনে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমণ্ডল, চরগোরকমণ্ডল, এবং পশ্চিম ফুলমতিসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য—সবই ঘোড়ার গাড়িতে করে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। শুধু এই ইউনিয়ন নয়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার ঘোড়ার গাড়িচালক এই পেশার ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
চরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, যান্ত্রিক যানবাহনের অনুপযোগী হওয়ায় ঘোড়ার গাড়িই তাদের জন্য একমাত্র সমাধান। প্রতিটি গাড়িতে ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত পণ্য অনায়াসে পরিবহন করা যায়।
পশ্চিম ফুলমতি এলাকার ঘোড়াগাড়িচালক শহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, তিনি ৮ বছর ধরে এই কাজ করছেন। প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা আয় হয়, যা দিয়ে তার সংসার চলে। ঘোড়ার খাবার বাবদ দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়।
আরেক চালক আলামিন জানান, আগে তারা গরুর গাড়ি ব্যবহার করতেন, কিন্তু ঘোড়ার গাড়িতে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম। একটি ঘোড়া দিয়েই সহজেই মালামাল পরিবহন করা যায়, যা বালুময় চরাঞ্চলের জন্য খুবই উপযোগী।
বালারহাট বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, ট্রাক্টর বা ভ্যান গাড়ি যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানে ঘোড়ার গাড়ি খুব সহজেই মালামাল পৌঁছে দেয়। খরচ কিছুটা বেশি হলেও এই সুবিধার কারণে তারা ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার গ্রামে প্রায় শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি আছে। এগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন পণ্য পরিবহন করা হয়, যা এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, “এক সময় ঘোড়া ছিল রাজার বাহন। এখন এটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও চরাঞ্চলে এটি এখনো পরিবেশবান্ধব ও অপরিহার্য একটি বাহন।”
