ঢাকার রাস্তাঘাট, সংস্কৃতি আর যানজট—রিকশা ছাড়া ভাবাই যায় না। এই বাহন কবে এলো, কারা নিয়ে এল, আর কীভাবে ঢাকার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠল—চলুন দেখে নেওয়া যাক।
🔹 রিকশার জন্ম
রিকশার উৎপত্তি হয় জাপানে ১৮৬৯ সালে। টোকিওতে ইজুমি ইয়োসুকে, তাকায়ামা কসুজো ও সুজুকি তোড়াজো নামের তিনজন মিলে প্রথম রিকশা তৈরি করেন।
“রিকশা” শব্দটি এসেছে জাপানি Jin-riki-sha থেকে, যার অর্থ—“মানুষের শক্তিচালিত গাড়ি।”
🔹 ঢাকায় প্রথম আগমন
জাপান থেকে রিকশা চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হয়ে কলকাতায় আসে। সেখান থেকে ১৯৩৮ সালে ঢাকায় আসে মাত্র তিনটি রিকশা। প্রথমদিকে এটি অভিজাত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহারে সীমাবদ্ধ ছিল।
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ইউরোপীয় জুট ব্যবসায়ী ও নবাব পরিবারের আত্মীয়রা কলকাতা থেকে রিকশা এনে ঢাকায় চালু করেন।
🔹 সরকারি লাইসেন্স
ঢাকায় প্রথম রিকশার সরকারি লাইসেন্স প্রদান করা হয় ১৯৪৪ সালে।
১৯৮৬ সাল পর্যন্ত মোট ৭৯,৫৫৪টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৬–৮৭ সালে নতুন লাইসেন্স প্রদান বন্ধ হয়।
🔹 আজকের রিকশা
বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ১০–১২ লাখ রিকশা চলাচল করে (লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংখ্যা অনেক কম)। রঙিন শিল্পকর্মে সাজানো রিকশা এখন কেবল পরিবহন নয়, বরং ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।
✅ তথ্যসংক্ষেপ:
আবিষ্কার → জাপান, ১৮৬৯
বাংলাদেশে প্রবেশ → নারায়ণগঞ্জ, ১৯৩৮
ঢাকায় প্রথম রিকশা → ১৯৩৮, সংখ্যা: ৩টি
প্রথম লাইসেন্স → ১৯৪৪
সর্বমোট লাইসেন্স (১৯৮৬ পর্যন্ত) → ৭৯,৫৫৪
লাইসেন্স বন্ধ → ১৯৮৬–৮৭
প্রাচীন নাম → মানুষ টানা গাড়ি
👉 রিকশা এখন ঢাকার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক প্রতীকের একটি।
