এস. এম. রুহুল তাড়াশী, স্টাফ রিপোর্টার:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাদের কুপ্রস্তাব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত সহকারী শিক্ষিকাদের দিয়ে চেয়ার পরিষ্কার করানো ও চা বানানোর কাজ করান। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ নিজের সন্তানদের ব্যবহার করতে দেন এবং স্কুলের অনলাইন কার্যক্রম বাইরে কম্পিউটার দোকানে করাতে বাধ্য করেন। কোনো কাজে আপত্তি জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং একাধিকবার সহকর্মী শিক্ষিকাদের তাঁর বাসায় গিয়ে কাজ করার অশোভন প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ‘ফকিন্নির ছেলে-মেয়ে’ বলে অপমান করেন।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে মৌখিক আপত্তি তোলায় প্রধান শিক্ষক তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং বলেন, “কোনো অফিসারের সাধ্য নেই আমাকে বদলি করার।” এর ফলে অনেক শিক্ষকই বিদ্যালয়ে থাকতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তোলে। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া জানায়, চারুকলার পরীক্ষার সরঞ্জাম প্রধান শিক্ষক বাড়িতে নিয়ে গেছেন এবং অকারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেন। আরেক শিক্ষার্থী রুমান অভিযোগ করে, নতুন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তাদের মারধর করেন।
পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী অভিযোগ করে জানায়, ধাক্কা লেগে প্রধান শিক্ষকের গায়ে লাগলে তিনি অশোভন আচরণ করেন এবং তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। এতে পরিবার থেকেও ভর্ৎসনার শিকার হতে হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে একজন শিক্ষকের মর্যাদা পাইনি। প্রয়োজনীয় বিষয় উত্থাপন করলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।” আরেক শিক্ষক জুবায়ের ইসলাম জানান, “তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে মূলত ব্যক্তিগত খামারের কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন এ বিদ্যালয়ে থাকতে চান না।”
সহকারী শিক্ষিকা মোছা. ফাতিমা খাতুন বলেন, “শিশুদের জন্য সরকারি কৃমিনাশক ওষুধ পুরনো তারিখের খাওয়াতে চাপ দেন। আমরা নতুন ওষুধ খাওয়ালে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং নতুন ট্যাবলেট খামারে নিয়ে যান।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করেছি। উপস্থিত সবার লিখিত বিবৃতি সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
