নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ধনী দেশগুলো কতটা দায়ী—এই বিষয়কে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সোমবার সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিকের উদ্যোগে আয়োজিত এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তির মাধ্যমে মত প্রকাশের অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল: “জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ধনী দেশ দায়ী”। এতে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, বন উজাড় ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিপক্ষ দল উন্নয়নশীল দেশগুলোর করণীয়, স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ ও সচেতনতার অভাব নিয়ে আলোচনা করে।
বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয় বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে।
তবে বিতার্কিকরা এটিও বলেন, শুধুমাত্র দায় চাপিয়ে নয়—এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকমণ্ডলী যুক্তি, উপস্থাপনা ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিজয়ী দলের নাম ঘোষণা করেন। পরে এক আনন্দঘন পরিবেশে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়সুল আজম প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বৈজ্ঞানিক বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক সংকটও। আমাদের আগামী প্রজন্মকে এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন চর্চা করতে হবে।”
আয়োজক বারসিক জানায়, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক নানা আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান। বারসিক কর্মকর্তা মোঃ সোহেল মিয়া ও তাসমিয়া তহুরা।
