উচ্চশিক্ষা নিয়েও চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি খাতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সাফল্য পেয়েছেন গোপালগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা এম এম হাসিব হাসান। মাত্র দুই বিঘা জমি আর তিনটি গরু নিয়ে শুরু করা তার কৃষি খামার এখন ৫২ বিঘা জমিতে বিস্তৃত, যেখানে বছরে তার আয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।
কাসিয়ানী উপজেলার জঙ্গলমুকুন্দপুর গ্রামের এই তরুণ তার মায়ের নামে গড়ে তুলেছেন ‘হাজেরা এগ্রো ফার্ম’। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, কৃষি শুধু পেটের দায়ে করা কাজ নয়, বরং একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসিবের খামারে ৬০টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। প্রতিদিন এখান থেকে উৎপাদিত হয় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার দুধ, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নিয়মিতভাবে ঢাকার বড় বড় মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হয়। গরুর খামারের পাশাপাশি উৎপাদিত গোবর থেকে ট্রাইকো কম্পোস্ট জৈব সার তৈরি ও বিক্রি করেন তিনি। তার উৎপাদিত সারের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও রয়েছে বেশ। এছাড়া, তার বিশাল আমবাগান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়, যার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।
হাসিবের এই খামারে বর্তমানে ১৫ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তিনি বলেন, “উচ্চশিক্ষা নিয়ে যে শুধু চাকরি করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমার এই কৃষি খামার থেকে কর্মচারীদের বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ শেষে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় হয়, যা চাকরি করলে সম্ভব হতো না।”
তিনি জানান, তার স্বপ্ন ছিল নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। গত ৯ বছরে তার পরিশ্রমের মাধ্যমে সেটি সম্ভব হয়েছে।
হাসিবের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য যুবকরাও কৃষি কাজে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয় তরুণ মামুন মীর বলেন, “আমরা কৃষি কাজকে এতদিন সাধারণ পেশা হিসেবে দেখতাম। কিন্তু হাসিব ভাইয়ের সাফল্য দেখে আমাদের ধারণা পাল্টে গেছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী এজাজুল করীম বলেন, “হাসিবের মতো শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা আমাদের কৃষিখাতের ভবিষ্যৎ। তার সাফল্য দেখে এলাকার আরও অনেক বেকার যুবক কৃষি কাজে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সব সময় এমন উদ্যোক্তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।”
হাসিবের এই অদম্য যাত্রা গোপালগঞ্জের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কৃষিখাত থেকেও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।
