বাংলার মধ্যভাগে বিস্তৃত চলনবিল আবারও যেন জেগে উঠেছে সোনালী আঁশের স্রোতে। বর্ষার জলে ভরে ওঠা এই বিশাল বিল এখন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়, কৃষকের আশাবাদেরও প্রতীক। মাঠে মাঠে পাট কেটে আনছে কৃষকেরা, খাল-ডোবায় চলছে আঁশ ছাড়ানোর ব্যস্ততা, আর বাজারমুখী নৌকা ও গাড়িতে জমছে নতুন দিনের উচ্ছ্বাস।
দীর্ঘদিনের শ্রম ও ধৈর্যের পর এবার তাড়াশের কৃষকেরা ফল পাচ্ছেন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ মৌসুমে আট ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে প্রায় ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮০ হেক্টর বেশি। কৃষকদের সহায়তায় সরকারিভাবে এক হাজারেরও বেশি কৃষক পেয়েছেন বিনামূল্যে সার ও বীজ। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাড়তি সেচের প্রয়োজন হয়নি এবং রোগবালাইও ছিল সীমিত। ফলে ব্যয় কমে উৎপাদন বেড়েছে, আর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে সন্তোষজনক পর্যায়ে।
মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের কয়েকজন চাষি জানান, এক বিঘা জমিতে গড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হলেও পাওয়া যাচ্ছে আট থেকে দশ মণ পাট। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার দুইশ থেকে তিন হাজার আটশ টাকায়। এতে এক বিঘা জমি থেকে আয় হচ্ছে প্রায় পঁইত্রিশ হাজার টাকা, সঙ্গে অতিরিক্ত দু’হাজার টাকার পাটকাঠিও মিলছে। গত বছরের তুলনায় এ আয়ে কৃষকদের মুখে ফিরেছে আশার হাসি।
তবে চলনবিলের কিছু উঁচু জমির কৃষকেরা পানি সংকটে আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। তবুও সর্বত্র এখন যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তা হলো—কৃষকেরা আবারও সোনালী আঁশে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পাচ্ছেন।
চলনবিলের প্রান্তরে পাট শুধু একটি ফসল নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য ও কৃষকের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আঁশের দীপ্তিতে কৃষকের ঘরে ফিরছে হাসি, বাজারে বাড়ছে চাঞ্চল্য, আর বাংলার আঙিনায় শোনা যাচ্ছে নতুন ভোরের গান
